শুভেচ্ছা বাণী
দিনের পর দিন চলে যায়, মাসের পর মাস চক্রাকারে আবর্তিত হয়-আর এমনি করেই প্রকৃতির বুকে ছ’টি ঋতুর হয় আনাগোনা। গ্রীষ্ম তার প্রখর উত্তাপ দিয়ে ঝলসে দেয় পৃথিবীর বুক আর তার পরেই আসে বর্ষা-নিয়ে আসে তার সাথে স্নিগ্ধ শীতল বারিধারা। শরতের প্লাবন ভরিয়ে দেয় নদীর দুকূল আসে হেমন্ত, আনে নবান্ন প্রতি ঘরে ঘরে আর এই উৎসব প্রমত্ত ধরণীর অঙ্গে শীত বুলিয়ে দেয় তার শীতল স্পর্শ। শীতও চলে যায়-এরপর প্রতিটি মানুষ অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করে সেই দিনটির জন্ম কখন সে দেখবে নতুনের সমারোহ, শুনবে কোকিলের কুহুতান ‘এলো যে বসন্ত’।
প্রকৃতির এই আহ্নিকগতি আর বার্ষিক গতির সাথে আমাদের জীবনের মুহুর্তগুলো মাস ও বছরগুলো এক এক করে চলে যায়-সেই সাথে ক্ষয়ে যায় জমাট বাঁধা আয়ু তিল তিল করে। ১৯৭৩ সালের কোন এক সুন্দর সকালে যে ছাত্র-ছাত্রীর দলটিকে বরণ করে নিয়েছিল বিশ্ববিদ্যালয়ের এই প্রাণিবিদ্যা বিভাগ তারা আজ ১৯৭৮ সালের মাঝামাঝি এসে চলে যাবার দিন-ক্ষণ গুণছে বলছে ‘এই বেলা সাঙ্গ হ’লো মোদের যে খেলা’। চলে যাবার চিরন্তন এই যে সত্য কথা সত্যি মনকে ভারাক্রান্ত করে তোলে-মন হয় আনমনা। আজকে এই মুহূর্তে আমারও তাই হয়েছে।
এম-এসসি শেষ পর্বের ছাত্র-ছাত্রীবৃন্দ আমার কাছে এসেছে একটি আবদার নিযে আমি যেন তাদের ‘স্মৃতি পুস্তিকা’র জন্য একটি বাণী দেই। আমি দিতে চেয়েছি। সত্যি, আজ আমি অত্যন্ত আনন্দিত ও সেই সঙ্গে ধন্য। তারা যে ‘স্মৃতি পুস্তিকা’ প্রকাশ করতে যাচ্ছে তাতে থাকবে তাদের সবার পরিচয় আর এই বিভাগে তাদের দীর্ঘ চার-পাঁচ বছরের বহু স্মৃতি বিজড়িত মুহুর্তগুলো। বিজ্ঞান এগিয়ে চলেছে অপ্রতিহত গতিতে বাধাহীনভাবে-নতুন নতুন আবিষ্কারে স্তম্ভিত হচ্ছে সবাই-কিন্তু সময়কে আঁটকে রাখবার যন্ত্র আজও আবিষ্কৃত হয়নি-হবেও না। তাই ছাত্র-ছাত্রীদের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় প্রকাশিত এই ‘স্মৃতি পুস্তিকা’ আমার কাছে সময়কে আঁটকে রাখবার একটি যন্ত্র বিশেষ। আমি তাদের সবাইকে জানাই আন্তরিক অভিনন্দন।
ছাত্র-ছাত্রী ভাইবোনেরা, প্রাণিবিদ্যার শেষ পর্বের পাঠক্রম তোমাদের প্রায় শেষ-এবার তোমাদের নামতে হবে সংসার অঙ্গণে, অচেনা পথ বেয়ে এগিয়ে যেতে হবে সামনে। গতকালের মত আগামীকালেও যোগ্যতম ব্যক্তিরাই টিকে থাকবে। আমি মনে প্রাণে বিশ্বাস করি তোমাদের সে যোগ্যতা আছে। তোমাদের অবিচলিত নিষ্ঠা ও ধৈর্য্য তোমাদের পথ দেখাবে। তোমাদের জীবন অকম্পিত অগ্নিশিখার মত দীপ্তিময় হোক, মনে প্রাণে এই কামনা করি।
৩রা আগস্ট, ১৯৭৮
সহকারী অধ্যাপক
প্রাণিবিদ্যা বিভাগ