প্রাণিবিদ্যা বিভাগের শিক্ষক-ছাত্রঃ আমরা গড়েছি
অনবদ্য মূল্যবোধ
পুরণো রোমন্থিত স্মৃতিকথা বেদনা বিধুর। ভুল নাই ভুলি নাই কিছু। হৃদয়ের পটভূমিতে সাগর সিঞ্চিত মমতাবোধ, স্নেহাদ্র ভক্তির সংমিশ্রণে আমরা শিক্ষক-ছাত্র যে অমলিন শ্বাসত সম্পর্ক সৃজন করেছি তা চিরদিন অম্লান হয়ে থাকবে প্রতিটি শিক্ষাব্রতীর হৃদয়ের মণিকোঠায়। ভীতির নিগড়ে আবদ্ধ ভক্তির শৃংখল চূর্ণ করে আমরা গড়েছি জ্ঞানের আকাশে একাকার নীলিমা যেখানে মুক্ত বিহঙ্গ ঘুরে বেড়ায় অবাধে আপন পাখনায় ভর রেখে। দীর্ঘ ছাত্রজীবনের শেষ বিদ্যাপীঠে যে শিক্ষা জ্বলে উঠে দীপ্ত প্রভায় আমাদের একত্রিত করেছিল সে স্মৃতি আজ বিয়োগ বেলায় ঝরায় আঁখিতে অশ্রু। হেনে যায় হৃদয়ে বেদনার ছুরিকাঘাত।
মম হৃদয়-রক্ত বিন্দু সাজায়ে তিলে তিলে
গ্রথেছি মালা শিষ্য গুরুতে দোহে মিলে মিলে।
অনুভূতির আখরে লিখিত এই লিপিকা ইতিহাস হয়ে রবে আমাদের হৃদয়ে নি:সন্দেহে।
১৯৭৩ সালে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষাঙ্গনে ভর্তি পরীক্ষা দিতে এসে দেখেছি “তিলঠাঁয় আর নাহিরে” ধরণের অবস্থা। প্রকট ছাত্রস্ফিতিতে আমরা হয়েছিলাম দিশেহারা, উদ্বেগাকুল উদভ্রান্ত। অবশেষে ঠাঁয় পেয়েছিলাম প্রাণিবিদ্যা বিভাগে সেই সাথে পেয়েছি প্রবেশ মুহূর্ত থেকে বর্তমান মুহূর্ত পর্যন্ত শ্রদ্ধেয় শিক্ষকগণের কাছ থেকে অপরিসীম স্নেহ, ভালবাসা, সহানুভূতি। এ ছিল যেন বিধাতার অমোঘ আশীর্বাদ।
শিক্ষক ও ছাত্র সমাজ ও দুটোকে মিশ্রিত করে আমরা বের করেছি নতুন এক মূল্যবোধ যেখানে রয়েছে চলার পথের উন্মেষ ক্লান্ত পথিকের তেষ্টা নিবৃত্তির অমৃত। জীবনের কচি কচি সবুজ পাতার প্রান্ত ছুয়ে বসন্তের কোকিলের সুর তুলেছি আমরা। আমাদের শিক্ষকদের নিয়ে তাই গর্ব করি-গর্ব করে আনন্দ পাই।
বিশেষ করে একজন শিক্ষকের কথা আমরা আমুল অন্ত:করণে চিরদিন স্মরণ করে যাব, যিনি একাধিক্রমে আমাদের শিক্ষক, অভিভাবক এবং পথ প্রদর্শক। যাঁর জীবনের চাঞ্চল্যকর পদক্ষেপ করেছে মুগ্ধ বিমোহিত, যার নির্দেশিত পথের ইশারায় আমরা জীবনকে সরল ও সুশৃঙ্খল পথে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারব এ দৃঢ় বিশ্বাস আমাদের আছে-তিনি সেই মহানুভব উৎসর্গীকৃত প্রাণ শ্রদ্ধেয় প্রফেসর মুস্তাফিজুর রহমান।
বিশ্ববিদ্যালয়ের সীমিত অনুদান ও সুযোগ সুবিধা আমাদের দৃষ্টিভঙ্গিকে জীবনের বৃহত্তর অঙ্গনে বিস্তৃত করতে কারও কর্তব্যবোধ ও দায়িত্ব যথেষ্ট নয়। প্রয়োজন যথাশক্তির-যা ভালবাসা। তাঁর পিতৃ-প্রতিম স্নেহসুধা কর্তৃপক্ষের যৎসামান্যতাকে কর্মক্ষমতায় রূপান্তরিত করেছে। তিনি এ বিভাগকে তাঁর নিজ গৃহতুল মনে করেছেন। তাঁর এই উপলব্ধি আমাদের মনে এনে দিয়েছে ঘরোয়া পরিবেশের আমেজ। আর এই আমেজের অনুভূতিকে অন্যান্য শ্রদ্ধেয় শিক্ষকগণ আপন মহিমায় পরম স্নেহাশীষ দিয়ে সুবাসিত করে তুলেছেন। প্রাণের স্পন্দনে আমরা কখন মিলে মিশে একাকার হয়ে গেছি তো খেয়াল করবারও অবকাশ পাইনি। এই একান্ত বোধ তৎসংগে সুদৃষ্টি এবং আশীর্বাদ আমাদের যে শিক্ষা দিয়েছে তার প্রতিফলন জীবনের প্রতি পরতে পরতে এঁকে যাবে শিল্পীল অংকিত মহান ছবি। আর তারই প্রতিবিম্ব হিন্দু বিন্দু করে ছড়িয়ে পড়বে অন্য জীবনের অর্গলাদ্ধ দ্বারে দ্বারে। সেই চূড়ান্ত পরশ দৃষ্টিভঙ্গি বিন্দুমালা খান খান করে ভেঙ্গে দেবে অহংবোাধ অহংকারী অশালীন মস্তিষ্ক।
তাদের এই “আপন করে নেওয়া” সামনের হতাশাময় বিশ্বের যে কোন হাঙ্গামা উৎপীড়ন ও উৎকণ্ঠার মোকাবিলা করে সমাজ ও দেশের সেবা করতে আমাদের উৎসাহী করবে এবং আমরা আশাবাদী।